।। উপজেলা প্রতিনিধি ।।
রাজিবপুরে শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রিমন মিয়া (১৯) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাজিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল ১১ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীসহ তাঁর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, দুই বছর আগে রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের জাউনিয়ার চর জালচিরা পাড়ার মৃত আবুল কালামের ছেলে রিমন মিয়ার (১৯) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করে রিমন মিয়া। দুই-তিন মাস আগে এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে জুরান আলী (৫০) নামের এক প্রতিবেশীর পরামর্শে বিয়ের সম্মতি দেন রিমনের মা ভানু বেগম (৪৫)। এরপর মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে আবারও ওই শিক্ষার্থীর বসতবাড়িতে গিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করে রিমন। এরপর থেকে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ করলেও বিভিন্ন টালবাহানা করেন অভিযুক্তের মা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের প্রস্তাব আসে। কিন্তু তাদের উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন রিমনের মা ভানু বেগম ও প্রতিবেশী জুরান আলী। এছাড়া অভিযুক্তকে গোপনে দেশের বাইরে পাঠানোর পায়তারা করছেন অভিযুক্তের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চলাফেরাসহ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে ওই শিক্ষার্থীর। অভিযুক্ত রিমন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রাজিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এতে কোনো প্রতিকার মেলেনি তাঁর। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত রিমন মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার বড় ভাই এমদাদুল হক বলেন, রাজিবপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজিবপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম ঘটনাটি মীমাংসা করে দিবেন এমন আশ্বাসের কথা অস্বীকার করেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
//নিউজ/রাজিবপুর//সুজন-মাহমুদ/নভেম্বর/২৯/২৩